ama

বুধবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০১৩

যৌন মনোবিজ্ঞান


হ্যাভলক এলিস
যৌনতার ভৌতিক আধার
প্রজনন জীবিত শরীরসমূহের আদিম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসমূহের আধারভূত কার্য। তার যন্ত্রগুলো অত্যন্ত জটিল এবং আজও পর্যন্ত পূর্ণরূপে তা বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। তা আবশ্যকরূপে যৌনতার সাথে সম্পৃক্ত নয় আর যৌনতা আবশ্যিকরূপে প্রজননের সাথে সম্পর্কিত নয়। তা সত্ত্বেও যৌনযন্ত্র তার সাথে সম্পর্কিত গৌণ যৌন লক্ষণগুলোর পূর্ণ বিকাশ শরীরের সাধারণ বিকাশের সমান যুগ্মগুলো অথবা প্রজনন কোষগুলো (Chromosome)-স্ত্রী দ্বারা প্রদত্ত ডিম্বাণু এবং পুরুষ দ্বারা প্রদত্ত শুক্রাণুর অক্ষুণ্নতার ওপর নির্ভরশীল। সমগ্র প্রজননক্রিয়া একদিনের ক্রিয়া নয়; বরং এ প্রক্রিয়া উর্বরিত অঙ্গের জন্মদান তথা পরবর্তীতে অগ্রসর হয়ে উর্বরিত অঙ্গের বিকাশের সময়ে বরাবর চালু থাকে এবং এর ওপর এ কার্য নির্ভরশীল থাকে। এ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ হতে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ব্যক্তিরা যৌন প্রবৃত্তির ব্যাখ্যা দিতে সংকোচবোধ করেন, তা সত্ত্বেও সর্বাবস্থাতে প্রারম্ভেই প্রথম অপেক্ষাকৃত অস্পষ্ট গোণাড কোষের জনক ক্রোমোজমসমূহের গঠন-প্রকৃতির সাথে সম্পর্কিত থাকে। কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়ার সময়ে তার নাভি-কণায় নিহিত ‘ক্রোমটন’ নামক পর্দা নিজেই স্পষ্ট শলাকার আকৃতিবিশিষ্ট তন্তুগুলোর এক নিশ্চিত সংখ্যায় বিভক্ত হয়ে যায়। এদেরই ক্রোমোজম বলে যা ক্রমানুসারে দলবদ্ধ হয়ে অবস্থান করে এবং প্রত্যেক প্রাণীর মধ্যেই এই সংখ্যা স্থির থাকে। এ মানববংশীয় সমস্ত জাতি-গোষ্ঠীতে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমানভাবে অবস্থান করে। পার্থক্য কেবল এতটাই যে, পুরুষের ক্রোমোজম যাকে ‘এক্স-ওয়াই’ বলে অভিহিত করা হয়েছে, ডাইগ্যামেটিক হয়ে থাকে এবং সে অপেক্ষাকৃত লঘু আকারের কারণ হয়ে থাকে।
স্তন্যপায়ী জীবগুলোর মধ্যে সাধারণভাবে (পাখিদের মধ্যে তা একেবারেই বিপরীত গুণযুক্ত হয়ে থাকে) পুরুষ ‘এক্স’ ধারী অথবা বিনা ‘এক্স’ধারী অথবা ‘রয়াই’ ধারী, এই দুই প্রকারের যুগ্মকগুলোর পুষ্টি সাধন করে, যেখানে স্ত্রী কেবল এক যুগ্মকেরই পুষ্টি সাধন করে। কোনো এক্সধারী ডিম্ব এক্সধারী শুক্রাণু দ্বারা উর্বরিত হয়ে এক্স-এক্স এবং স্ত্রীযুগ্মকে বনে যেতে পারে অথবা ওয়াইধারী শুক্রাণু থেকে উর্বরিত হয়ে এক্স-ওয়াই অথবা পুরুষ-যুগ্মকে বনে যেতে পারে। এই প্রকারে আমরা সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার (যাকে ইভানস এবং সুয়েজির ব্যাপক গবেষণাকর্ম স্পষ্ট করে দিয়েছে) প্রারম্ভ বিন্দুতে পৌঁছায়। ম্যান্ডেলের সূত্র ধরে চলমান এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বর্ণনার সুযোগ নেই।
ম্যান্ডেল দ্বারা প্রতিপাদিত উত্তরাধিকারের প্রক্রিয়াবলি নিম্নস্তরের জীব অপেক্ষা যা প্রথমদিকে তিনি প্রতিপন্ন করেছিলেন, মানুষের ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিবর্তিত এবং জটিল। এ থেকে যে সত্য বেরিয়ে আসে তা হলো সাধারণভাবে গর্ভধারণের সময়েই প্রাণীর পুরুষত্ব বা স্ত্রীত্ব নির্ধারিত হয়ে যায়, আর এর ফলে গর্ভাবস্থার সময়ে পুরুষ বা স্ত্রী বানানোর যুক্তিসঙ্গত তত্ত্বের অভিমুখী হয়ে থাকে। ক্রয়ুর ভাষায় এ কথা নিশ্চিতরূপে বলা যায় যে, প্রত্যেক উর্বরিত ডিম্বাণুতে তা সে ক্রোমোজমের গঠনের দিক থেকে এক্স-এক্স হোক অথবা এক্স-ওয়াই, বিকাশ প্রক্রিয়াটি প্রাকৃতিক নিয়মে হয়ে থাকে, যাতে প্রত্যেক বিকাশমান ব্যক্তি পুরুষ অথবা স্ত্রীরূপে বিকশিত হয়ে ওঠে।
জ্ঞানের এই ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশেষত বর্তমান শতাব্দীতে যে উন্নতি হয়েছে তার প্রতিও মনোযোগ দেয়া উচিত। কেননা যৌন মনোবিজ্ঞানের সাথে এর সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। প্রারম্ভেই আমরা একে স্বীকৃত তথ্যরূপে মেনে নিয়েছি, যে যে শরীরে এমন গ্রন্থি (Glands)-সমূহের প্রাধান্য রয়েছে, যার কেন্দ্র অণ্ডকোষ, তাকে ধারণ করা ব্যক্তিটি পুরুষ হয়ে থাকে; আর এই শরীরে পুরুষ প্রকৃতিরই প্রাধান্য থাকে। যার কেন্দ্র হয় ডিম্বকোষ তাকে ধারণকারিণী ব্যক্তিটি স্ত্রী হয়ে থাকে। এভাবে সাধারণরূপে যৌন ক্ষেত্রের প্রাথমিক লক্ষণ সুনিশ্চিত হয়ে যায়। তাদের সাথেই গঠনাকৃতির অনুরূপ যৌন-অঙ্গসমূহের বিকাশও সম্পর্কিত। শেষ পর্যায়ে দোয়াম শ্রেণীর প্রকাশিত লক্ষণগুলোর পূর্ণপ্রাপ্তির সাথে যার সাথে দোয়াম শ্রেণীর যৌন লক্ষণগুলোর রূপে কয়েকটি অপ্রকাশ্য ভেদ সম্বন্ধ থাকে, যৌন পরিপক্বতা এসে যায়। এ সমস্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে বহু প্রকারের বিবিধতা দেখা যায়। যৌন গ্রন্থসমূহ ও দোয়াম শ্রেণীর যৌন লক্ষণ মধ্যবর্তী যৌন টাইপের দিকে যেতে পারে যা শারীরিক-মানসিক কোনো এক প্রকারে অথবা দুইভাবে বিপরীত লিঙ্গের নিকটবর্তী হতে পারে।
এই প্রকার পুরুষত্ব ও স্ত্রীত্বের নিরীক্ষিত সহঅস্তিত্বের ঘটনা ঘটে ‘হরমোন’ নামক এক রাসায়নিক দ্রব্যের অভ্যন্তরীণ ক্ষরণ থেকে। এই ক্ষরণ শরীরের বিবিধ ক্ষরণগ্রন্থি থেকে বেরিয়ে রক্তে এসে মিলিত হয়। লিঙ্গের সহঅস্তিত্ব বর্ণিত ক্ষরণের উত্তেজক প্রভাব অথবা এমন প্রভাবের ত্রুটি থেকে উৎপন্ন হয়ে থাকে। অতিক্ষরণ, অল্পক্ষরণ অথবা অব্যবস্থিত ক্ষরণের কারণে শারীরিক সঞ্চলন, মানসিক ঝোঁক ও সামর্থ্যে পরিবর্তিত হতে পারে, এমনকি কার্যত যৌন পরিবর্তনও ঘটতে পারে।
আমাদের লক্ষ্য তো অগণিত ক্ষরণগ্রন্থির মধ্যে সামঞ্জস্যযুক্ত সমন্বয় সাধন। এভাবে সংঘটিত সম্বন্ধের ব্যাখ্যার জন্য অনেক দেশে অনেক গবেষণা হয়ে চলেছে। অনবরতভাবে নয়া নয়া তথ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের গোচরে আসছে এবং বর্তমানে ‘পিটুইটারি’ নামক এক শ্লৈষ্মিক গ্রন্থির সম্মুখবর্তী অংশের সাথেই মূত্রাশয়ের নিকটে অবস্থিত ‘অ্যাড্রেনাল’ নামক গ্রন্থির সক্রিয়তা প্রদানকারী প্রভাবকে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। যেমন ব্লেয়ার বেল বহুকাল আগেই স্বীকার করে নিয়েছেন, ডিম্বকোষ অথবা অণ্ডকোষকে পিটুইটারি ও থাইরয়েড গ্রন্থির ন্যায় অবয়বের শৃঙ্খলার এক কড়ি মাত্র। কয়েকটি বিষয়ে এর পরিণাম আজও অনিশ্চিত। কিন্তু যৌন মনোবিজ্ঞানের অধ্যয়নের জন্য এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, এই দিশায় শারীরবিজ্ঞান তথা প্রাণরসায়ন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রের গবেষণার জন্য কিছু তথ্য সংগ্রহ করা আবশ্যক। তা সত্ত্বেও এ স্থলে এর বিবেচনা উপযুক্ত হবে না। এ বিজ্ঞান দিনের পর দিন বিকশিত হয়ে চলেছে এবং চিকিৎসাবিষয়ক পত্র-পত্রিকাগুলোতে তথা প্রাণরসায়ন বিজ্ঞানের সাহিত্যে তার অগ্রগতি পাওয়া যায়।
এখানে উল্লিখিত বিষয়সমূহের সর্বেক্ষণাত্মক আলোকপাতের রূপে এ কথা জেনে নেয়া পর্যাপ্ত যে, এই দিশায় যে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে তা হলো প্রথমে যেখানে আমরা স্নায়ু প্রণালীকে এই প্রক্রিয়াসমূহের সক্রিয় ঘটক বলে মনে করতাম, সেখানে আমরা এখন রাসায়নিক ক্ষরণ প্রণালীকে অধিক সক্রিয় বলে গণ্য করি। এ কখনো কখনো স্নায়ু প্রণালীর অন্তর্গত হয়ে থাকে, আবার কখনো বা তা থেকে পৃথকও হয়ে যায়। কখনো কখনো তো স্নায়ুকেন্দ্র স্বয়ং রাসায়নিক নিয়মনের অধীন হয়ে যায়।
যদি আমরা ল্যাংডন ব্রাউনকে অনুসরণ করি তাহলে আমরা এ কথা বলতে পারি যে, ক্ষরণ-প্রণালী (Secretion) ওই সমস্ত আদিম রাসায়নিক যন্ত্রসমূহের বিস্তার, যা স্নায়ু প্রণালীর বিকশিত হওয়ার আগে প্রাণীদের মধ্যে ক্রিয়াশীল ছিল। শরীরের ক্ষরণদ্রব্য নিয়মনের আদিমতার এ এক আকর্ষণীয় প্রমাণ যে, সমস্ত হরমোনের বাহক শরীরের অতি প্রধান ঘটক, এমনকি এ সময়ে অনুপযোগী পিটুইটারি এবং পিনিয়লের ন্যায় শরীর-প্রণালীর শুরু থেকে হয়। এর সাথে আমাদের এ কথাও স্মরণ রাখা উচিত, যেমন কিছুকাল আগে বোক জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, হরমোনের প্রভাবে সংঘটিত উদ্দীপন ও মন্দতার বিশেষ মানবীয় গুণাবলির বিকাশকে বিচিত্ররূপে প্রভাবিত করে। এমনকি এ উদ্দীপনা ও মন্দতা, যেমন সমপ্রতি কিথ বলেছেন, বিভিন্ন জাতির চারিত্রিক বিশেষত্বকেও প্রভাবিত করে। যখন স্নায়ুপ্রণালীতে এবং প্রথম থেকে বিদ্যমান রাসায়নিক যন্ত্রসমূহের সাথে তার মেলবন্ধন ঘটতে লাগল, বিশেষরূপে তার নিম্নতর স্তরে অর্থাৎ পাকযন্ত্রীয় স্নায়ুপ্রণালীতে যা সহানুভূতিশীল এবং প্রায় সহানুভূতিশীল (যা বিকশিত স্নায়ুর প্রসারিত রূপ) রূপে বিভাজিত হতে লাগল। সহানুভূতিশীল প্রণালীর ঝোঁক ছড়িয়ে পড়ার প্রতি হয়ে থাকে, সেই সাথে সক্রিয়ও। সে পিটুইটারি, থাইরয়েড ও অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিসমূহের সাথে সম্পর্কিত প্রায় সহানুভূতিশীল প্রণালী, যাকে অধিকাংশতা : পুষ্টিপ্রদ ও নিষ্ক্রিয় বলে গণ্য করা যেতে পারে, প্যাংক্রিয়াস ও প্রত্যক্ষরূপে প্যারা থাইরয়েডের সাথে সম্পর্কিত হয়ে থাকে। এ সমস্ত প্রণালী পরস্পরবিরোধী এবং বলা যেতে পারে যে, জীবনের তাল-লয় তার সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল থাকে। গোনাড বিশেষত সহানুভূতিশীল ক্ষরণ-গ্রন্থিসমূহের ওপর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চালায়। যদিও পিনিয়াল এবং থাইমস প্রকৃত অর্থে ক্ষরণ-গ্রন্থি নয় (কেননা এগুলো থেকে কোনো প্রকারের ক্ষরণকার্য হয় না) তা সত্ত্বেও সেগুলো প্রধানরূপে যৌন পরিপক্বতার মন্দতা এবং দৈহিক বিকাশের ওপর অনুরূপ প্রভাব ফেলে ক্ষরণ প্রণালীকে প্রভাবিত করতে পারে।
পিটুইটারিকে বর্তমানে ক্ষরণ-সম্পর্কিত বাদ্যবৃন্দের নির্দেশক বলে অভিহিত করা হয়। প্রাচীন শারীরশাস্ত্রীয়রা উপরস্থিত বৃন্তের সাথে এক বৃন্ত দ্বারা সম্পর্কিত এই লঘু অবয়বকে লঘু মস্তিষ্ক বলে গণ্য করতেন। এ ধারণাকে যে বর্তমানে একেবারেই অযথা বলে অভিহিত করা হয় তা কিন্তু নয়। হার্ভে কুশিং বলেন-‘এখানে খুব গহিন-গভীর স্থানে আদিম জীবন-ক্রমের প্রধান স্রোতটি মজুদ রয়েছে। সেই জীবনক্রমে যা বর্ধক, ভাবুক প্রজনক, এর ওপর ভিত্তি করেই মানুষ কমবেশি সাফল্যের সাথে বিধি-নিষেধের এক সীমা নির্ধারণ করে রেখেছে।’ ইনভাস ও সিম্পসন এর কিছু কোষের সাথে বৃদ্ধি এবং যৌন বিকাশের যোগসূত্র আবিষ্কার করেছেন।
থাইরয়েড যাকে প্রজননগ্রন্থি বলে অভিহিত করা হয়-সমস্ত প্রকারের রচনাত্মক অর্থাৎ কলাত্মক ও বৌদ্ধিক কার্যকারিতার জন্য আবশ্যক। বাস্তবিকই যদি তা নাও হয় যেমনটি দাবি করা হচ্ছে, তা সত্ত্বেও তা প্রজননের জন্য অবশ্যই প্রয়োজন। তার নির্যাস ‘থাইরোক্সিন’ (যা সংশ্লেষাত্মকরূপে প্রস্তুতযোগ্য) সাধারণ পুষ্টির ওপর ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলে।
সুপ্রারেনলস থেকে স্রবিত ‘অ্যাড্রেনালিন’ (সংশ্লেষাত্মকরূপে যা-ও প্রস্তুতযোগ্য)-এর হৃৎপিণ্ড, রক্তবাহিকাগুলো, যকৃৎ, লালাগ্রন্থি, নাড়িভুঁড়ি, চোখের মণি ও তিল্লির ওপরও অপেক্ষাকৃত দ্রুত প্রভাব পড়ে। যেখানে অ্যাড্রেনালিন এমন গভীর প্রভাব ফেলে যেখানে তার নিজের ক্ষরণ, যেমনটি টুনডি বলেন, ঘনিষ্ঠরূপে স্নায়ু-প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।
ক্ষরণগ্রন্থি একে অন্যকে প্রভাবিত করতে পারে। থাইরয়েড হটিয়ে দিলে পিটুইটারির বিস্তার হতে পারে, যদিও যুবাবস্থায় কোনো জানোয়ার থেকে পিটুইটারি হটিয়ে দিলে থাইরয়েড অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে। থাইরয়েড সুপ্রারেনলসকে উদ্দীপ্ত করে, যা যকৃৎ কোষগুলোকে রক্তে ‘গ্লাইকোজেন’ ছাড়ার জন্য উত্তেজিত করে দেয়। এর ফলে প্যাংক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধি করার জন্য উত্তেজনা লাভ করে। তারপর এমনও হয় যে, পিটুইটারির পূর্বাংশটি তিনটি হরমোন সৃষ্টি করে। একটি হরমোন থেকে বৃদ্ধি বা বিকাশ হয়। দ্বিতীয়টি থেকে ডিম্বকোষ উত্তেজনা লাভ করে, ফলে ‘অ্যাস্ট্রিন’ সৃষ্টিকারী গ্রাফিয়ন গুটিকাগুলো (Follicles) পরিপক্ব হয়ে ওঠে। এখানে উল্লেখ্য যে, এভাবে উৎপন্ন অ্যাস্ট্রিন থেকে উর্বরিত ডিম্বাণুকে গ্রহণ করার জন্য গর্ভাশয়ে পরিবর্তনের সূত্রপাত হয়। তৃতীয় হরমোন থেকে ডিম্বাণুকে ঠিকমতো প্রতিস্থাপনের জন্য গর্ভাশয়সংক্রান্ত অন্য পরিবর্তন সাধিত হয়। এগুলোর মধ্যকার অন্য হরমোনের বিশেষরূপে ব্যবহারিক গুরুত্ব রয়েছে। কেননা, গর্ভাবস্থা হোক বা না হোক, এ জানার জন্য করা। ‘জোন্ডেক আইশহাইম’ নামক পরীক্ষণের ভিত্তি তার সূত্রেই মজুদ রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ ক্ষরণ ও রাসায়নিক ওষুধগুলোর ক্রিয়ার মধ্যে খুবই সাদৃশ্য রয়েছে। শার্পে শাফের চান যে, হরমোনের সংজ্ঞার প্রয়োগ উত্তেজনা প্রদানকারী প্রকার পর্যন্তই সীমিত করে দেয়া হোক এবং যে প্রকারগুলো থেকে প্রতিকূল নিষেধাত্মক প্রভাব পড়ে, সেগুলোকে ‘শালোন’ (Chalones) নামে অভিহিত করা হোক। তিনি এই দুটি প্রকারের সংযুক্ত নাম দেন ‘অটোকয়েড’
(Autocoids)। যা থেকে এই সার্থকতা প্রকাশ পায় যে, তা স্বয়ং শরীর দ্বারা উৎপন্ন রাসায়নিক ঔষধির সমান বস্তু। এখন দেখা যায় যে, আমাদের শরীর সম্পর্কিত বিষয়াবলির ব্যাখ্যা রাসায়নিক পদার্থাবলি ও সেই সাথেই স্নায়ু-নিয়মনের শব্দাবলির মাধ্যমে করতে হবে। আমরা এও দেখতে পারি যে, এ দুই প্রকারের পরিভাষা-স্নায়ুসম্পর্কিত হওয়া অপেক্ষা সম্ভবত কিছুটা বেশি এবং তা মানসিক ব্যাপারগুলোর অন্য তটে অবস্থিত। একথা আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, শরীরে অত্যন্ত বড় সংখ্যায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী সব বস্তু (তত্ত্ব) বিদ্যমান রয়েছে, যেমন বিবিধ হরমোন এবং ভিটামিন, সেই সাথেই সে সবের সাথে নিষ্পন্ন সিরাম এবং ভ্যাকসিন, যেগুলোকে উচিতরূপে জীব-বৈজ্ঞানিক রাসায়নিক ঔষধি বলে অভিহিত করা যেতে পারে। যেমন ওই সবের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে, তেমন তাদের গুরুত্বও বেড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। তবে এ কারণে প্রাণ-রাসায়নিক বিজ্ঞানসম্পর্কিত পরিভাষা নিয়ে আসা আমাদের জন্য উচিত-সঙ্গত হবে না। অনেক কাল আগে থেকেই স্পষ্টতই বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, মনোবিজ্ঞানে শারীর-রসশাস্ত্রীয় (Histological) পরিভাষাগুলো প্রচলিত করা ভুল ছিল। এ ক্ষেত্রে প্রাণ-রাসায়নিক (Biochemical) পরিভাষাগুলোর প্রচলনও ততটাই ভুল হবে। মনোবেগ মনোবেগই থাকবে, তা তার উৎপত্তিতে শারীরিক দৃষ্টিতে হরমোন অব শালোন কোনো অংশগ্রহণ করুক বা না করুক।
অনুবাদঃ মুহম্মদ জালালউদ্দীন বিশ্বাস
সহায়ক পুস্তক
এফ.এইচ.এ. মার্শাল- Physiology pf Reproduction.
এস. ফ্রয়েড-Introductory Lecturures on Psycho-Analysis.
 পোস্ট @ মনোজগত 

শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে জানান । তাদের কে জানতে দিন অজানা বিষয় গুলি।  প্রকাশক ও সম্পাদক ব্লগার_সৈয়দ রুবেল লেখকজানার আছে অনেক কিছু
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Facebook Share

এই ব্লগে যা আছে

সর্বশেষ প্রকাশিত

M Ads

আপনি দ্রুত ব্রাউস করতে Uc Browser নিন।

Adds