ama

বুধবার, ১৮ এপ্রিল, ২০১২

যে ভিডিওর জন্য ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে এত তোলপাড় সেই ভিডিও!


উপরের পিক গুলো দেখেই বুঝতে পারছেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানববন্ধনের ছবি এগুলো। যেই কারণে এত কিছু তার ভিডিও নামাতে নিম্নের লিঙ্কে যানঃ
ডাউনলোড করুন পরিমলের আকাম!
Download Link 1
http://www.mediafire.com/?q1w1v4ndpy5dfh1
download Link 2
http://205.196.121.100/erp8ts6x4yug/q1w1v4ndpy5dfh1/porimolviqarunnisa_banglarap.wordpress.com.3gp

‘ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজ প্রসঙ্গ’ বহু পুরনো এই ইস্যু। ব্লগে এবং ফেসবুকে এতবার লেখালেখি হয়ে গেছে যে ইস্যুটি এখন পুরনো মনে হওয়া অস্বাভাবিককিছু নয়। তবুও কিছুটা বাধ্য হয়েই হাতে কলম তুলে নেয়া। ঘটনার সামনে-পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঘটে যাওয়া অদৃশ্য-অজানা দৃশ্যাবলী উপস্থাপনের জন্যই এই লেখা।
শিক্ষক নিয়োগে এ যাবৎকালে ভিকারুননিসায় চলে আসা অলিখিত নিয়মাবলীঃ
১. প্রত্যেক শাখায় নারী ও পুরুষশিক্ষক নিয়োগের হার ৯৯:১ হতে হবে।
২. নিয়োগপ্রাপ্ত পুরুষ শিক্ষকের ‘Marital Status’ বিবাহিত হতে হবে (সাধারণত ধরে নেয়া হয়, বিবাহিত পুরুষ শিক্ষকের অভিভাবকমূলক আচরণের দরুণ তার সাথে ছাত্রীদের একটি যৌন হয়রানিবিহীন নিরাপদ সম্পর্ক বজায় থাকে)।
৩. অধ্যক্ষ নির্বাচনে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বয়োঃজ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে করে অনেকগুলো বছরের লব্ধ অভিজ্ঞতা পুরো প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে চালনায় সহায়ক হবে।
আগেই বলেছি যে এগুলো অলিখিত নিয়মাবলী। শুরুতেই উল্লেখ করে নিলাম কারণ পরের প্রসঙ্গগুলোতে এটা কাজে আসবে।
অধ্যক্ষ পদে রোকেয়া আক্তারের অপসারণ ও হোসনে আরার আসন গ্রহণঃ
সবার চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া একটি কথোপকথন (প্রকৃতপক্ষে একটিউক্তি) তুলে ধরছি। কথোপকথনের ব্যক্তিদ্বয় তৎকালীন অধ্যক্ষ রোকেয়া আক্তার এবং গভর্নিং বডির প্রধান রাশেদ খান মেনন।
রোকেয়া আক্তারের প্রতি মেননের বক্তব্য, “বেটি তুই যাবি নাকি তোর চুলের মুঠি ধরে নামাবো?”
(নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকৃত বক্তার নাম এখানে প্রকাশ করলাম না কিন্তু ভিকিরা অনেকেই এটা জানলেও মুখ খুলছে না)
ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকতা করে আসা রোকেয়া আক্তার এই প্রতিষ্ঠান থেকে একটিফেয়ারওয়েলও নিয়ে যাবার সময় পান নি। তার আগেই তাকে অধ্যক্ষের আসন থেকে সরে গিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে হয় এবং তার পরিবর্তে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান আজিমপুর গার্লস স্কুলের শিক্ষক হোসনে আরা বেগম। ভিকারুননিসায় এসেই হোসনে আরার গর্বিত বক্তব্য, “আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বান্ধবী।“
প্রশ্ন ওঠে, অলিখিত নিয়মাবলী ৩ ভঙ্গের জন্য মেনরের এত তাড়া ছিল কেন? প্রধানমন্ত্রীর বান্ধবী বলেই কি রোকেয়া আক্তারের দ্রুত অপসারণ খুব জরুরী হয়ে পড়েছিল?অধ্যক্ষ হোসনে আরার সময়কালে ঘটে যাওয়া অনিয়ম ও দুর্নীতিঃ
১. প্রতিষ্ঠানের নাম ও ড্রেস্ কোড পরিবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টা।
২. স্কুলে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি পরীক্ষার বদলে লটারি ভিত্তিতে ভর্তির নিয়ম চালু করা হয় যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দুর্নীতিমুক্ত ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। কিন্তু নিয়মটি যে নিঃসন্দেহে চরমভাবে লংঘিত হয়েছে তার প্রমাণ পেতে ভুক্তভোগী সাংবাদিক আশীষ এন্তাজ রবির লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন।
৩. বসুন্ধরা শাখায় ৬০:৪০ অনুপাতে নারী-পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যেখানে অবিবাহিত সত্ত্বেও পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন (পরিমল জয়ধরের দেয়া তথ্যানুযায়ী, তিনি তার Marital Status তখনও প্রকাশ করেন নি)। সুতরাং অবধারিতভাবেই প্রথম দুটি নিয়ম ভঙ্গ হয়।
৪. নিয়োগপ্রাপ্ত পুরুষ শিক্ষদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি,কর্মরত অবস্থায় অশ্লীল শব্দ ব্যবহার এবং ধর্ষণে প্রত্যক্ষ ওপরোক্ষ সহায়তা প্রদানের অভিযোগ আনা সত্ত্বেও অধ্যক্ষ নির্বিকার ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগকারী মেয়েটিকে বহিষ্কার এবং ধর্ষকের মদতদাত্রী হিসেবেও শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছেন।
১৬ হাজার ছাত্রীর চাওয়া-আমাদের দাবীঃ
১. যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষক পরিমল জয়ধরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
২. তদন্ত সাপেক্ষে দোষী অন্য আসামি ও অপরাধীদের দৃষ্টানমূলক শাস্তি
৩. অধ্যক্ষের অপসারণ
৪. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যনে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন
৫. জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষদের মধ্য থেকে অধ্যক্ষ নিয়োগ
৬. বিভিন্ন শাখায় যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে আচরণগত সমস্যার উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ
৭. রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা
১৬ হাজার ছাত্রীর চাওয়া-আমাদের দাবী…
আমাদের প্রাপ্তিঃ
১৬ হাজার ছাত্রীর মাত্র ৭ টি দাবীর বিপরীতে প্রাপ্তির তালিকাটি নেহাৎ ছোট নয়। পরিমল জয়ধরের গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তির পর বিচারের ব্যাপারটি মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যাবার পরেও আমাদের আন্দোলনচলেছে। আমরা চেয়েছি সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থাটি নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়ন ও ত্বরান্বিত করতে, চেয়েছি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে,চেয়েছি আমাদের প্রতিবাদী বোনটির পাশে দাঁড়াতে যাতে করে সে হেরে না যায়, পৃথিবীর কিছু অশুভের বিরুদ্ধে যাতে তার পরাজয় না ঘটে। যে কলংক তার জীবনে একটি সীলমোহর হয়ে বসে যেত, আমরা সবাই চেয়েছি সেটি ভেঙে দিতে। বিনিময়ে আমরা কি পেয়েছি? Full post by open this link.
http://bikhipto18.tk/?p=238
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Facebook Share

আপনি দ্রুত ব্রাউস করতে Uc Browser নিন।

Adds

এই ব্লগে যা আছে

সর্বশেষ প্রকাশিত