ama

বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

বিবস্ত্র বাঙালি সারাহ বেগম কে নিয়ে বিশ্বমিডিয়ায় তোলপাড়

সাহারা বেগম

বিশ্বমিডিয়ায় এবার এক বাঙালি বংশোদ্ভূত যুবতীকে নিয়ে তোলপাড়। তার নাম সারাহ বেগম। তিনি বৃটিশ নাগরিক। তার পিতামাতা বা দেশে গ্রামের বাড়ি কোথায় তা জানা যায় নি। তিনি প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করেন। এমন মিশন নিয়ে গিয়েছিলেন আমাজন জঙ্গলে। সেখানে তিনি যে কাহিনীর জন্ম দিলেন সে কারণেই তিনি বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার পাত্রী। ওই জঙ্গলে গিয়ে তিনি তার চেয়ে বয়সে অনেক বড় এক উপজাতি যোদ্ধাকে বিয়ে করলেন। সেই বিয়ের অনুষ্ঠান কেমন ছিল! ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে সারাহ বেগম ও তার মনের মানুষ গিঙ্কটো ছিলেন সম্পূর্ণ নগ্ন। এ নিয়ে লন্ডনের ডেইলি মেইল প্রকাশ করেছে একটি সচিত্র প্রতিবেদন। তাতে বলা হয়েছে, বাঙালি বংশোদ্ভূত এই বৃটিশ যুবতী চলচ্চিত্র পরিচালক আমাজন জঙ্গলে গিয়েছিলেন ডকুমেন্টারি নির্মাণ করতে। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে বিয়ে করে বসলেন স্থানীয় উপজাতি এক যোদ্ধাকে। এর কারণ হিসেবে তিনি বললেন, নিজের তেল কোমপানিগুলো কিভাবে আমাজনকে ধ্বংস করছে তা নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ করতে চান তিনি। আর সে জন্যই বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন। এ বিয়েকে তিনি বলেন কেবল আনুষ্ঠানিকতার বিয়ে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতার বিয়ে হলেও তাকে সেই বিয়ের আসরে সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হতে হয়েছে। আমাজনের ইকুয়েডর অংশে তিনি হুয়ারাওনি উপজাতিদের সঙ্গে দুই সপ্তাহ অবস্থান করতে মাত্র ২১ বছর বয়সে লন্ডন ছেড়ে যান সারাহ বেগম। ১৯৫০ সালের পর থেকেই বহিরাগতদের প্রতি এক ধরনের ঐতিহাসিক ঘৃণা রয়েছে এই উপজাতিদের। ১৯৫০ সালে পাঁচ মার্কিন খ্রিস্টান পাদ্রি সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে, তাদেরকে খুন করে উপজাতিরা। কিন্তু সারাহ দাবি করেছেন, তাকে বেশ সাদরে বুকে টেনে নিয়েছে তারা। শেষ সময়ে এসে তিনি ৫০ বছর বয়সী গিঙ্কটো নামের এক উপজাতিকে বিয়ে করেন। গিঙ্কটো নিজেদের হুয়ারাওয়ানি ভাষায় কেবল কথা বলেন। এছাড়া, সপ্যানিশ ভাষার কিছু শব্দ জানেন। এটি ছিল একটি প্রতীকী আনুষ্ঠানিকতা, যা দিয়ে তেল কোমপানিগুলোর বিরুদ্ধে এই উপজাতিদের সাহায্যের আবেদন তিনি পৌঁছে দিতে চেয়েছেন বিশ্বের কাছে। এই বিয়ের আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি বলেন, আমাকে মূলত তাদের মধ্যকার বয়স্করা নির্বাচন করেন। আমার কোন ধারণাই ছিল না আমার সঙ্গে কি হতে যাচ্ছে। আমাকে একটি কুঁড়েঘরে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে সবাই বিবস্ত্র ছিল। এরপর আমার কোমরের চারপাশে পরানো হয় গাছের তন্তু দিয়ে তৈরী এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম, আমি নগ্ন হতে পারবো না। কেননা, ফিল্মের কাজ চলছে। এক মুহূর্তের জন্য দৌড়ে পালানোর কথাও ভেবেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমার মনে হলো, তাদের ঐতিহ্য সমপর্কে পুরোপুরি জানা উচিত আমার। মহিলাদের একজন আমার পোশাক খুলে নেন। এরপর বয়স্ক নেতারা গান গাইতে শুরু করেন। নারীরা তাদের জন্য ‘ছিছা’ নামের এক ধরনের পানীয় বানায়। আমাকে নগ্ন দেখে তারা খুশি হয়। এরপর আমার জন্য ম্যাকাউ পাখির পাখা দিয়ে মুকুট বানাতে থাকে তারা। আমাকে বলা হলো, তারা আমাকে রানী বানাতে যাচ্ছে। আমার চারপাশে তখন উপজাতি নারী ও যোদ্ধারা নাচছে আর গাইছে। তারা আমাকে ‘ছিছা’ খেতে দিলো। আমার নতুন নাম দেয়া হলো ইমাচা। এর অর্থ, ‘শেষ নাম’। আমার হবু স্বামী ছিল উপজাতিদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় যোদ্ধা। আমার তখনও জানা ছিল না, কি হতে যাচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো স্বাগত জানানোর প্রক্রিয়াই এটি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দেখলাম আমার পাশেই একজন দাঁড়িয়ে আছে। তার বাহু যেন আমার চারপাশে। বিষয়টা বুঝতে পারার পর সারাহ রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। কিন্তু তাকে পরে জানানো হয়, এটা কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। গিঙ্কটোর সঙ্গে তার কোন যৌন সমপর্ক স্থাপন করতে হবে না। এটা হচ্ছে, উপজাতিদের সঙ্গে বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য সম্মানসূচক। তিনি বলেন, তারা জানতো আমি কেন গিয়েছি সেখানে। তাই তারা দেখাতে চেয়েছিল তারা কিভাবে থাকে। নিজের ‘স্বামী’ সমপর্কে তিনি বলেন, গিঙ্কটো বেশ দারুণ ও শক্তিশালী শিকারি। এর ফলে নারীদের মধ্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়। সে বেশ মজারও। লন্ডনে আমার জীবন সমপর্কে জানতেও সে খুব আগ্রহী ছিল। আমরা উপজাতিদের মধ্যে সপ্যানিশ জানে এমন লোকদের মাধ্যমে কথা বলছিলাম। আমার ক্যামেরাম্যানও সপ্যানিশ জানতো। গিঙ্কটো আমার বাবা-মা, পরিবার ও বন্ধুদের সমপর্কেও চানতে চেয়েছিল। আমাজনে এমন বহু ডকুমেন্টারি পরিচালককে আশ্রয় দিয়েছে উপজাতিরা। তবে বিয়ের আয়োজন করাটা বেশ বিরলই বটে। তিনিই একমাত্র বৃটিশ নারী নন, যাকে সে গিঙ্কটো ‘বিয়ে’ করেছিলেন। দুই বছর আগে গিঙ্কটো আরেক বৃটিশ কারেন মরিস লাঞ্জকে বিয়ে করেছিলেন! এক সন্তানের জননী কারেন তখন বিবিসি’র হয়ে সেখানে উপজাতিদের বিয়ে সমপর্কেই একটি ডকুমেন্টারিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এটা সমপর্কেও জানেন সারাহ। তার তৈরী ‘আমাজন সোলস’ গত বছর কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে। তিনি জানালেন, এখনও ওই উপজাতির সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন সারাহ। যখন তাদের কেউ অনেকদিন পর পাশের শহরে যায়, তখন ই-মেইল বা ফেসবুকে যোগাযোগ হয় তার সঙ্গে। আরও জানালেন, সময় ও সুযোগ থাকলে আবারও যাবেন আমাজনের সেই উপজাতিদের কাছে। সূত্র

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুণ।

 এই ব্লগে পড়তে কি সমস্যা হয়?আপনার কি টাকা বেশি খরচ হয়ে যায়?

Facebook Share

M Ads

আপনি দ্রুত ব্রাউস করতে Uc Browser নিন।